• বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ | ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইগারপাসে গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের বাধা, এনসিপির সঙ্গে ধস্তাধস্তি

টাইগারপাসে গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের বাধা, এনসিপির সঙ্গে ধস্তাধস্তি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:২৯ ১৮ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

সোমবার (১৮ মে) দুপুর ১টার দিকে টাইগারপাস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে একই এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোববার রাত থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে এনসিপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সোমবার সকাল থেকেই টাইগারপাস, লালখান বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে কয়েকজন এনসিপিকর্মী টাইগারপাস মোড় এলাকায় নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নিলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তিনজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে প্রত্যাশার জন্ম হয়েছিল, সেখানে এখন আবারও স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, এসব গ্রাফিতি কেবল দেয়ালচিত্র নয়; বরং আন্দোলনের স্মৃতি, তরুণদের প্রতিবাদ ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তাই এগুলো আঁকতে বাধা দেওয়া বা অপসারণের চেষ্টা সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/