• রবিবার , ১৪ জুন, ২০২৬ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে জামায়াত

জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে জামায়াত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:৫৩ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানের তিন বছরের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দলটি নতুন আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি আমিরের মেয়াদ তিন বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

যদিও জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে জামায়াত তার আগেই নিজেদের নেতৃত্ব নির্বাচনের কাজ শেষ করতে চাইছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রথমে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্যরা তিনজনের সম্ভাব্য আমির প্যানেল ঘোষণা করেন। সেই প্যানেল থেকে একজন নতুন আমির নির্বাচিত হন। তবে দলীয় রীতি অনুযায়ী, ভোটাররা চাইলে প্যানেলের বাইরে থেকেও কাউকে আমির হিসেবে নির্বাচিত করতে পারেন। সাধারণত ঘোষিত প্যানেল থেকেই নতুন আমির নির্বাচিত হয়ে থাকেন এবং প্যানেলের নাম ভোট শুরুর আগ পর্যন্ত গোপন রাখা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান প্রথমবার ২০১৯ সালের নভেম্বরে আমির নির্বাচিত হন এবং ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর শপথ নেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হন। এবারও তিনি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। দলের ভেতরে এবং সমর্থকদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানা গেছে। মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মানবিক সহমর্মিতার কারণে তিনি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের আগস্টের পর থেকে দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর নেতৃত্ব দলের ভেতরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে। যদিও গত জুলাই মাসে মহাসমাবেশে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি অস্ত্রোপচারের কারণে কিছুদিন বিশ্রামে ছিলেন, বর্তমানে আবারও নিয়মিতভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও গোপনীয়। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা দলের রুকনরা গোপন ভোটের মাধ্যমে তাঁদের আমির নির্বাচন করে থাকেন। এই ভোটগ্রহণ ও গণনার কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যেই শেষ হবে এবং নতুন আমির ডিসেম্বরের মধ্যেই শপথ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম। তাঁকে সহযোগিতা করছেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এবারের আমির নির্বাচিত হলে তিনি ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী ঘোষণা না থাকলেও মজলিসে শুরা কর্তৃক মনোনীত তিনজনের নাম ভোট শুরুর সময় প্রকাশ করা হবে। অতীতে বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও জামায়াতের নেতৃত্ব নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি কঠিন পরিস্থিতিতেও অনলাইনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছিল।

দলীয় ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমান ১৯৯৮ সালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি ধাপে ধাপে সিলেট মহানগর আমির, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পূর্বসূরি ছিলেন মকবুল আহমদ, যিনি ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আমির ছিলেন এবং ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার আগে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী দীর্ঘ ১৬ বছর (২০০০-২০১৬) জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, জামায়াতের আমির নির্বাচিত হওয়ার পর দলের সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়নের অধিকার থাকে তাঁর হাতে। এই পদটি দল পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে শুধু আমির নির্বাচনই নয়, নতুন সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়নের বিষয়টিও দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/