• মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব গণমাধ্যমে জয়জয়কার: বাংলাদেশে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে জামায়াত

বিশ্ব গণমাধ্যমে জয়জয়কার: বাংলাদেশে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে জামায়াত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:১৯ ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, দমন-পীড়ন ও বিচ্ছিন্নতার পর জামায়াতে ইসলামী আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি করেছে। রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, জামায়াত এখন আর কেবল একটি প্রান্তিক দল নয়—বরং তারা ক্ষমতার বাস্তব দাবিদার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

গত দেড় দশকে রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে যাওয়া দলটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে নতুন করে সংগঠিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার মধ্যে রাজনৈতিক মাঠ উন্মুক্ত হওয়ায় জামায়াত দ্রুতই তাদের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট তৈরি করেছে।

রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, জামায়াতের মাঠপর্যায়ের সংগঠন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দৃশ্যমান। দলটি সরাসরি ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে কৌশলগত জোট ও সমঝোতার পথে হাঁটছে, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলকে নাটকীয়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াতের নতুন রাজনৈতিক জোট কৌশল নিয়ে। ছাত্রনেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক শক্তি এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট রাজনীতিই জামায়াতকে আবারও মূলধারায় ফিরিয়ে এনেছে এবং তাদের ‘একক দল’ ভাবমূর্তি ভাঙতে সহায়তা করছে।

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলও বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতকে উপেক্ষা করার অবস্থানে নেই। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে সব প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, যার মধ্যে জামায়াতও রয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তবে জামায়াতের এই উত্থান নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে সংখ্যালঘু অধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক ইসলামের শক্তিশালী পুনরুত্থান বাংলাদেশে সামাজিক ভারসাম্য ও উদার গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত যদি ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছায় বা সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাহলে দেশের নীতিনির্ধারণ, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং সামাজিক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়নের মুখে পড়বে।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চোখে ২০২৬ সালের নির্বাচন শুধুই একটি নির্বাচন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চরিত্র নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান সেই সমীকরণের সবচেয়ে আলোচিত ও সংবেদনশীল অংশ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই দল ক্ষমতার দরজায় পৌঁছাতে পারে কি না—সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/