• মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮.৬ ডিগ্রিতে কাঁপছে তেতুলিয়া, সূর্যহীন দিনে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮.৬ ডিগ্রিতে কাঁপছে তেতুলিয়া, সূর্যহীন দিনে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৫০ ৬ জানুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আকাশে সূর্যের দেখা নেই, চারপাশ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। বেলা বাড়লেও ঠান্ডার তীব্রতা কমছে না। হাড় কাঁপানো শীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে উত্তরের এই সীমান্ত জনপদে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তিনি বলেন, সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে মঙ্গলবার ভোর থেকেই ঠান্ডা আরও বেড়েছে এবং কুয়াশার ঘনত্বও বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, বিশেষ করে মহানন্দা নদীতে পাথর উত্তোলনে নিয়োজিত শ্রমিকরা। তীব্র ঠান্ডায় কাজ করতে গিয়ে তারা চরম কষ্টের মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে দেখা গেছে, আবার কেউ কেউ ভারী কাপড় ও কম্বলে নিজেকে ঢেকে রেখেছেন।

ঘন কুয়াশার কারণে সড়কেও দেখা দিয়েছে ঝুঁকি। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে যাতায়াতে বাড়ছে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিনভর সূর্যের কোনো দেখা মেলেনি। কুয়াশা আর মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় পুরো দিন কেটেছে। মঙ্গলবার সকালে ঠান্ডা আরও বেড়েছে। সকাল ১০টা পর্যন্তও সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের দাপট আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে বলে জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/