ন্যায্য দাম না পেয়ে তেতুলিয়ার কৃষকের গমে ভাটা-লোকসানে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চাষিরা


প্রকাশিত: ০৫:৪১ ৩১ মার্চ ২০২৬
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক সময় গম ছিল প্রধান ফসলের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু বর্তমানে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নানা অসঙ্গতির কারণে গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা। ফলে ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে গম চাষ কমে গিয়ে কৃষকরা ভুট্টা, মরিচসহ অন্যান্য লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২১ হাজার ১৫৮ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ২৪০ হেক্টরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গম চাষ হয়েছে তেঁতুলিয়া উপজেলায়, যেখানে প্রায় ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন করা হয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে প্রতি মণ গম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০০ থেকে ১১০০ টাকায়, যা দিয়ে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার আগে তেঁতুলিয়া অঞ্চল ছিল মঙ্গাপীড়িত। তখন গম ছিল মানুষের প্রধান খাদ্য, এবং এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে গমের চাষ হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে কৃষির ধরন বদলেছে। এখন লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা, আর গম হারাচ্ছে তার পুরোনো গুরুত্ব।
উপজেলার তিরনই হাটের কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, “গম চাষ করে এখন আর লাভ হয় না। বাজারে গমের দাম কম, কিন্তু মরিচ বা ভুট্টার দাম অনেক বেশি। সরকার নির্ধারিত দামে গম বিক্রির সুযোগও আমরা পাই না। খাদ্যগুদামে গম কেনার তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের নাম থাকে না, সেখানে সিন্ডিকেট কাজ করে।”
কৃষকদের অভিযোগ, সরকার গমের মূল্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দামে গম বিক্রি করা কঠিন। সময়মতো সরকারি ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হওয়া, তালিকায় অনিয়ম এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে করে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে এবং গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন বলেন, “কৃষকরা সব ধরনের ফসলই চাষ করছেন, তবে গমের ক্ষেত্রে আগ্রহ কিছুটা কমে গেছে। মূলত উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম না পেলে কৃষকরা নিরুৎসাহিত হন। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করা গেলে তেঁতুলিয়ায় গম চাষ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় বাজার নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ ক্রয়নীতি এবং মধ্যস্বত্বভোগী
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - দেশজুড়ে
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর কান ধরে উঠবস, সোনাক্ষী সিনহার ভিডিও ভাইরাল
- এক সময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পীদের বার্ষিক ভাতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল পঞ্চগড়
- কৃষক সেজে ফসলি মাঠ থেকে পলাতক আসামিকে ধরল পুলিশ
- মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতের উদ্বেগ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
- কিয়েভে ড্রোন প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১০
- সুবিধা চেয়ে আদালতে পলক: ‘আমার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম’
- ম্যাজিক চুলায় ভাত রাঁধতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু
- সবজির দামে ‘সেঞ্চুরি’, কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা কেজি
- জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হতে পারে: বিরোধীদলীয় নেতা
- ডা. শফিকুর রহমান: জীবন, চিকিৎসা পেশা ও রাজনৈতিক পথচলা
- হাসনাত আব্দুল্লাহ: ছাত্রজীবন, আন্দোলন ও রাজনৈতিক পথচলা
- ভূরাজনীতি নিয়ে বিভ্রান্তির খেলা: জনগণকে বিভ্রান্ত করার দায় কার?
- বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে পুরোনো রেকর্ড ভাঙার চ্যালেঞ্জ
- চিকিৎসকদের মর্যাদা, স্বাস্থ্যখাতের সংকট এবং রাষ্ট্রের করণীয়
- সম্ভাবনায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল দ্বৈরথ
- স্টেজে ঝলমলে থাকার গোপন রুটিন জানালেন শাকিরা
- রংপুরে মসজিদে চেয়ার–টেবিল বসিয়ে জামায়াতের ইউপি প্রার্থী বাছাই সভা, সমালোচনার ঝড়
- কেপ ভার্দের জয় নিয়ে সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী, মেসির হার দেখছেন তিমুর লিসতের প্রেসিডেন্ট
- দৃষ্টিহীন তরুণের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল ‘অ্যাশেজ’




