• শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাত্তরে মুসলিম লীগ করায় শান্তি কমিটিতে ছিলেন আসিফ আকবরের বাবা

একাত্তরে মুসলিম লীগ করায় শান্তি কমিটিতে ছিলেন আসিফ আকবরের বাবা

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:১৪ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার বাবার রাজনৈতিক অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলী আকবর ছিলেন কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

আসিফ জানান, মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই ১৯৭১ সালে তার বাবা শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আলী আকবর অনেক মানুষের জীবন, সম্পদ ও বাড়িঘর রক্ষা করেছিলেন। এমনকি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন আসিফ। এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাবার ভূমিকার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আসিফ বলেন, মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে তার বাবার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন। তার দাবি, অনেক মানুষের জানমাল রক্ষা করার কারণে তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষের ব্যক্তি বলা ঠিক হবে না। ছয় দফা আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরে আসিফ বলেন, ১৯৬৬ সালে তার বাবা মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে সেই চিঠি এখন পরিবারের কাছে নেই।

স্বাধীনতার পর বাবার কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাও ব্যাখ্যা করেছেন আসিফ। তার ভাষ্য, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী নিরাপত্তার কারণে তার বাবাকে কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং ১৭ ডিসেম্বর তিনি নিজেই কাস্টডিতে চলে যান। পরে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানান আসিফ। তার দাবি, ১৯৭৪ সালে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এসব অভিযোগ থেকে তার বাবা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে মুক্তি পান এবং সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে নয়, আদালতের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন