• রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজারবার প্রার্থনা করেছি যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়: শ্রুতি হাসান

হাজারবার প্রার্থনা করেছি যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়: শ্রুতি হাসান

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪:২১ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিরিয়ডের শারীরিক যন্ত্রণা, পিসিওএস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের মাসিকজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন দক্ষিণ ভারতীয় ও বলিউড অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান। এমনকি রসিকতার ছলে তিনি বলেছেন, পুরুষদেরও যদি পিরিয়ড হতো, তাহলে কর্মক্ষেত্রে ‘পিরিয়ড লিভ’ হয়তো আরও গুরুত্ব পেত।

সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শ্রুতি। সেখানে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পিসিওএসের কারণে তীব্র পিরিয়ডের ব্যথা ও ক্র্যাম্পের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শুটিং সেটে এসব নিয়ে কথা বলতে একসময় অস্বস্তি বোধ করতেন।

শ্রুতি জানান, পিরিয়ডের সময় নারীদের শারীরিক অবস্থাকে কর্মক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে রসিকতা করে তিনি বলেন, তিনি বহুবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়। তাহলে হয়তো কর্মক্ষেত্রের চুক্তিতেই পিরিয়ডের ছুটির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকত।

পডকাস্টে সোহা আলি খানও বিষয়টি নিয়ে মজার মন্তব্য করেন। পুরুষদের পিরিয়ড হলে তারা হয়তো নিজেদের মাসিকের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রতিযোগিতা শুরু করতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রুতি হাসান নিজের এক সহ-অভিনেতার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিনেতা হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে সমস্যায় থাকায় শুটিংয়ের সময়সূচি তার শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছিল।

এ ঘটনা দেখে শ্রুতি প্রথমবারের মতো একজন পরিচালককে নিজের পিরিয়ডের সমস্যার কথা জানান। পরিচালক বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেন এবং জানান, তার নিজের মেয়েও পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্যথায় ভোগেন। এই অভিজ্ঞতার পর থেকেই মাসিক নিয়ে কর্মক্ষেত্রে খোলামেলা কথা বলার বিষয়ে শ্রুতির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।

শ্রুতি আরও জানিয়েছেন, অল্প বয়স থেকেই তিনি পিসিওএসের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এই শারীরিক অবস্থার কারণে ভবিষ্যতে মাতৃত্ব নিয়েও তাকে নানা উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়েছিল। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।

তার মতে, পিরিয়ড বা নারীদের হরমোনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে অস্বস্তি বা সংকোচের পরিবেশ থাকা উচিত নয়। বরং প্রয়োজনের সময় নারীদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সহযোগিতা এবং বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকা জরুরি।

বিজ্ঞাপন