• শনিবার , ০৬ জুন, ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ: ৭% সুদে ২০০ কোটি পর্যন্ত ঋণ

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ: ৭% সুদে ২০০ কোটি পর্যন্ত ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪:৫৬ ৫ জুন ২০২৬

বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ থাকা শিল্প ও সেবা খাতকে আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের আর্থিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই ঋণ সুবিধা গ্রাহক পর্যায়ে মাত্র ৭ শতাংশ সুদের হারে পাওয়া যাবে, যা বর্তমান বাজারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ সংগ্রহ করবে এবং তা ৭ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের কাছে বিতরণ করবে। এর মাধ্যমে শিল্প খাতে চলতি মূলধনের চাপ কমিয়ে উৎপাদন সচল রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা নিতে পারবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই ঋণ মূলত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে ব্যবহার করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন অবশ্যই ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে—নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগের কোনো ঋণ পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত সাপ্তাহিক উৎপাদন ও বিক্রয় রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রয়োজনে সরেজমিন যাচাই করবে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে।

এর আগে ২৩ মে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। নতুন এই ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিমকে সেই বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ৭ শতাংশ সুদের এই সুবিধা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্প পুনরায় চালু হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে ইতিবাচক গতি আসবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/