বসুন্ধরার তাপমাত্রা বাড়ছে, আরও সচেতন হতে হবে আমাদের


প্রকাশিত: ০৪:২৯ ৫ জুন ২০২৬
আমাদের প্রিয় সাধের বসুন্ধরার তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এটা একটা ব্যাধি। এর ওষুধ দেওয়া উচিত। আমরা জ্বর হলে মাথায় জলপট্টি দিই, মাথা ধুইয়ে দিই, প্যারাসিটামল-কুইনাইন দিই যাতে তাপমাত্রা কমে স্বাভাবিক হয়ে যায়, যাতে কোনও বিপদ না হয়। কিন্তু পৃথিবীর যদি অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যায় তবে খুবই বিপদ। এটা পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টির পক্ষে বিপদ। তাই ওষুধ দিতে হবে। সেটা হচ্ছে মানুষের শুভবুদ্ধি। যে শুভবুদ্ধি সুপ্ত আছে বা নির্জীব হয়ে আছে, তাকে চাঙ্গা করতে হবে। যে সব কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর এগুলিই হচ্ছে বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করার অ্যান্টিবায়োটিক বা ঔষধ।
বিশ্ব উষ্ণায়ন এখন সমস্ত পৃথিবীর লোককে ভাবিয়ে তুলেছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে সারা বসুন্ধরার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যেতে পারে সমস্ত বিশ্ব। এটা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করার সময় এসেছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বুঝতে পেরেছে বিশ্ব উষ্ণায়ন একটা ব্যাধি। আজকাল সংবাদমাধ্যম ও দূরদর্শনের মাধ্যমে একটা কথা সবার মধ্যে প্রচার হয়ে গিয়েছে যে খুব শীঘ্রই বসুন্ধরার বিরাট বিপর্যয় হতে পারে। আমি আমাদের দেশেই যতটুকু ঘুরেছি তাতে বিস্তর ফারাক। আমাদের চট্টগ্রাম - সিলেট ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যে পরিমাণ বৃক্ষরাজী রয়েছে সে তুলনায় বরিশাল- ফরিদপুর- যশোর- কুষ্টিয়া- পাবনা - কিংবা পুরো উওর জনপদ উল্টোচিএ। আমাদের বুঝতে হবে আমরা একটা ভারসাম্যের মধ্যে আছি। কতকগুলি থালার মতো ভূখণ্ডে আমরা ভাসমান অবস্থায় আছি। সমস্ত বসুন্ধরার প্রতিটি সৃষ্টি একটা সুশৃঙ্খল নিয়মের মধ্যে আপাত স্থায়ী একটা ভারসাম্যের মধ্যে বিরাজ করছে। সূর্য, সবকটি গ্রহ, বসুন্ধরা সবই একটা প্রাকৃতিক নিয়মে বাঁধা। প্রত্যেকেই নিরন্তর সুশৃঙ্খলভাবে একটা নিয়মে দিবারাত্রি কাজ করে চলেছে। সমস্ত প্রকৃতিই তো চলছে একটা সুন্দর ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে। এই প্রেক্ষিতে বিশ্ব উষ্ণায়ন তাই একটা চিন্তার বিষয়। সবাই একটা জায়গায় মিলিত হয়ে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এটাই সাধু প্রয়াস।
এখন কেউ আর গরুর গাড়ি চড়ে দূরে সফরে যাওয়ার কথা ভাববেন না এমনকি প্যাডেল রিক্সা - ভানেও না! তাঁরা মোটরযান বা আরও দ্রুত যানে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। করুন। এতে আপত্তি নেই। কিন্তু দেখুন এই মোটরযান মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকারক গ্যাস যেন বাতাসে না মেশায়। বসুন্ধরা বাঁচলে আমরা বাঁচব, বাঁচবে সৃষ্টি। চলবে অনন্তকাল। আমরা শ্রেষ্ঠ জীব। আমরা চিন্তা করতে পারি। আমরা ভালোমন্দ বুঝতে পারি। আসুন আমরা বসুন্ধরাকে রক্ষা করি।
মানুষ এটা বুঝতে শিখেছে যে পরিবেশ রক্ষায় উদ্ভিদ জগতের একটা বিরাট ভূমিকা আছে। যেমন গাছ বাতাসের কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে সূর্যের কিরণের সাহায্যে খাদ্য তৈরি করে। এরই সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে ছেড়ে দেয় প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন যেটা মানুষ ও প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য খুবই প্রয়োজন। তাই নির্বিচারে গাছ কাটলে বা অরণ্য ধ্বংস করলে মানব জগতের সমূহ বিপদ। তাই আমাদের বন ও বনাঞ্চল সম্বন্ধে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। এটা বোঝা উচিত যে প্রকৃতি আমাদের দু'হাতভরে সম্পদ দিয়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে ব্যবহারের জন্য। যেমন দিয়েছে বনজ সম্পদ, তেমনই দিয়েছে সামুদ্রিক, কৃষি ও খনিজ সম্পদ। কিন্তু এগুলি যথেচ্ছ ব্যবহার করলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। শুধু যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু পরিমিত আকারে ব্যবহার করা উচিত। আমাদের প্রচুর বনজ সম্পদ আছে। তাই বলে নির্বিচারে গাছ কেটে জ্বালানি ব্যবহার করে বনাঞ্চল ধ্বংস করে যদি আমরা কংক্রিটের নগর বা শহর, শহরের বাসস্থান তৈরি করি তাহলে ভুল করা হবে। কারণ আমাদের ভাবতে হবে, এই পরিবেশ শুধু আমার আপনার একা না। এই পরিবেশ বসুন্ধরার প্রতিটি জীবনের, কীট-পতঙ্গের, পশুপক্ষীর, গাছপালার জন্য। সুতরাং, এখন যদি পরিবেশ যথেচ্ছ ব্যবহারের দরুন নষ্ট করি তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা কি জবাব দেব? তাদেরকে কি বলব তোমাদের জন্য বিষাক্ত পরিবেশ রেখে গেলাম? চলছে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের " পরিবেশ সপ্তাহ " আসুন আমরা সাধ্যমত বৃক্ষ রোপণে ভূমিকা রাখি।বনজ- ফলজ- ঔষধি। বেশীর ভাগ মনে করেন নিজের জায়গা নাই কোথায় রোপণ করবো...? নিজের জমি-জায়গা না থাকলেও আপনি রোপণ করতে পারবেন।আপনার বাড়ি- বাসা থেকে নিয়মিত যে রাস্তা ব্যবহার করেন তার দুপাশে অনায়াসে বৃক্ষ রোপণ করতে পারেন।পয়সা খরচ না করেও বৃক্ষ রোপণে ভূমিকা রাখতে পারবেন।চলছে মধুমাস আর মধু মাসে আমাদের সবার বাসায় কম বেশী ফল থাকে ( কাঁঠাল - আম- জাম- লিচু- সফেদা)ফল খাওয়া শেষে ফেলে দেয়া বীজ গুলো রাস্তার দুপাশে ফেলে রাখুন আর মাস খানেক পর নিজের চোখেই দেখুন পরিবর্তন।
কোথাও যদি দেখা যায় নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে, তাহলে যারা গাছ কাটছে তাদের বোঝানো ও নিয়ম মধ্যে নিয়ে এসে মনিটরিং বাড়ানো। জনস্বার্থে মামলা করলে আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আসলে আমাদের জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। দেশে দূষণ রোধের আইন আছে। সেগুলি ঠিকমতো প্রয়োগের চেষ্টা করতে হবে। জনমত গড়ে তুলতে হবে।
লেখকঃ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
সর্বোচ্চ পঠিত - সম্পাদকীয়
- বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ: ৭% সুদে ২০০ কোটি পর্যন্ত ঋণ
- বাংলাদেশে যৌথ ড্রোন কারখানার প্রস্তাব দিয়েছে তুরস্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা
- বসুন্ধরার তাপমাত্রা বাড়ছে, আরও সচেতন হতে হবে আমাদের
- আখাউড়ায় ‘দাঁড়িয়ে থাকা’ কাটা গাছ ঘিরে চাঞ্চল্য, আগরবাতি–মোমবাতি নিয়ে মানুষের ভিড়
- ব্র্যাক ব্যাংক নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের শেষ তারিখ ১০ জুন ২০২৬
- চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার- বছরের এক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই আদালতে রেজিস্ট্রি দাখিল করা হয়েছে।
- ঈদের পর প্রথম শুক্রবার: বাজারে ক্রেতা কম, মুরগির দাম ঊর্ধ্বমুখী
- মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে শাকিব খান: ‘রকস্টার’ নিয়ে নতুন আলোচনা
- প্রস্তুতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ফ্রান্সের হার
- অরুণাচল প্রদেশে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করল বিজেপি
- আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে খোরশেদ আলম, দিলেন আর্থিক সহায়তা
- বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জানা গেল পাত্রীর পরিচয়
- সন্তান ও টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী
- ১৫ বছর পর খালাস পেলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী-দিনারসহ ৩৮ জন
- এমপিদের সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে পড়ানো বাধ্যতামূলক করা উচিত
- তুরস্কের নতুন সামরিক শক্তি প্রদর্শন: আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রসহ একাধিক উন্নত অস্ত্র উন্মোচন
- মা: নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আশ্রয়
- ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের দেখতে গেলেন জামায়াত আমির
- ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশে কঠোর অবস্থান হাইকোর্টের, ৬ মাসে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশ
- পদত্যাগে অনড় মমতা, পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক সংকট
