• শুক্রবার , ১০ জুলাই, ২০২৬ | ২৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ১৫ টাকা, চড়া মাছের বাজারও

ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ১৫ টাকা, চড়া মাছের বাজারও

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:০৪ ১০ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে ডিমের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। তবে গরু ও খাসির মাংস এবং মুরগির দাম আগের পর্যায়েই রয়েছে। বর্ষায় কিছু শাকের সরবরাহ বাড়লেও বেশ কয়েকটি সবজি বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজার, ধানমন্ডিসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাদা ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং লাল ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব ডিমের দাম ছিল ডজনপ্রতি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ডিম বিক্রেতা রোমান জানান, বাড়তি দামে ডিম কিনতে হওয়ায় ক্রেতাদের কাছ থেকেও আগের চেয়ে বেশি দাম নিতে হচ্ছে।

মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৩০ টাকা কেজি দরে।

মাছের বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দামই সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। আকার ও মান অনুযায়ী চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভেটকি মাছের দাম কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কৈ মাছ কিনতে খরচ হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। বাইম মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া প্রায় ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারেও উচ্চমূল্য অব্যাহত রয়েছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়।

তবে চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, কৈ এবং মাঝারি আকারের রুই মাছের দামে বড় পরিবর্তন হয়নি। চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। মাঝারি রুইয়ের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। রূপচাঁদা, নদীর বোয়াল ও বড় শোল মাছের দাম অনেক ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।

রায়েরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মনতাজ উদ্দিন বলেন, কয়েক মাস ধরে মাছের দাম প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। চিংড়ি, বড় রুই, রূপচাঁদা ও শোলের দাম সাধারণত বেশি থাকে। তবে বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ইলিশের দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ধানমন্ডির বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, তিনি শোল মাছ ৭০০ টাকা এবং ভেটকি ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। তার মতে, মাছের বর্তমান দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।

এদিকে বর্ষার কারণে বাজারে লালশাক ও পুঁইশাকের সরবরাহ বেড়েছে। লালশাকের আঁটি ১০ টাকা এবং পুঁইশাক ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছে। একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকায়।

বেগুনের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙার দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এ ছাড়া কচুরলতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ও মানভেদে কাঁচামরিচের দাম রয়েছে ৮০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে।

বিজ্ঞাপন