• বুধবার , ১২ আগস্ট, ২০২৬ | ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশীয় এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন যাচ্ছে খামারি পর্যায়ে

দেশীয় এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন যাচ্ছে খামারি পর্যায়ে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৩১ ১২ আগস্ট ২০২৬

দেশে প্রথমবারের মতো দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এই দুই ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

খামারিদের কাছে পৌঁছাবে দেশীয় ভ্যাকসিন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বিএলআরআই উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত দেশের কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ খাতে রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ পোলট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দেশীয়ভাবে কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ

মন্ত্রী বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত এসব ভ্যাকসিন প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতে রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমাতেও এসব উদ্ভাবন সহায়ক হবে।

দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লে ভবিষ্যতে প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আশা

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা কমবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাবে।

উপস্থিত ছিলেন যারা

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চিকিৎসক, শিল্প উদ্যোক্তা, খামারি প্রতিনিধি এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত এই দুই ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে খামারি পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হলে পোলট্রি ও ছাগল পালনে রোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খামারিদের উৎপাদন ব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন