• রবিবার , ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাল্টার কেজি ৫২০ টাকা কেন, ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

মাল্টার কেজি ৫২০ টাকা কেন, ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৫৮ ৩ অক্টোবর ২০২৬

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় পৌঁছানোর কারণ জানতে চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ হিসাব করেও এত দাম হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ফলের সরবরাহ ও বাজারমূল্য নিয়ে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বৈঠকে মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। কীভাবে আমদানি ও আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করার পরও প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় উঠছে, তার ব্যাখ্যা চান ব্যবসায়ীদের কাছে।

একই সঙ্গে অযৌক্তিকভাবে বেশি দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ মিললে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

কেন বেড়েছে মাল্টার দাম

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে মাল্টার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ সরবরাহ সংকট। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার প্রয়োজন।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, উচ্চ শুল্কের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী আমদানি কমিয়েছেন। মাল্টা পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণেও আর্থিক ঝুঁকি থাকে।

বাজারে সরবরাহ বাড়াতে তাগিদ

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শোনার পর মাল্টার শুল্কের বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিকল্প দেশ থেকে আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত ঋণপত্র বা এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

আসন্ন চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতেও ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, খেজুর আমদানিতে শুল্ক-কর নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহে জানানো হবে।

খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য নিয়েও উদ্যোগ

খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘদিনের জটিলতা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করবে।

বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর প্রস্তাবটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানোর কথা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হওয়া প্রয়োজন যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক মূল্যায়নের শিকার না হন। পাশাপাশি কম মূল্য দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও বন্ধ রাখতে হবে।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং ফল আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন