উত্তেজনার মধ্যেই জেনেভায় ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান


প্রকাশিত: ১১:৩৬ ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মাঝেই আবারও কূটনৈতিক পথে ফেরার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান শুরু থেকেই সংলাপ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখে আসছে। তাদের মতে, চলমান সংকট নিরসনে আলোচনা ছাড়া বিকল্প নেই, এবং উভয় পক্ষের সাম্প্রতিক যোগাযোগ পরিস্থিতিকে ইতিবাচক দিকে নিতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আলোচনাকে ঘিরে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগের বৈঠকগুলো থেকে কিছু উৎসাহব্যঞ্জক ইঙ্গিত মিলেছে এবং ব্যবহারিক প্রস্তাব আদান-প্রদান হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তেহরান শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থানও কঠোর। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে এবং তেহরান কেন এখনো পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। জানা গেছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই সামরিক প্রস্তুতির জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার ভাষায়, পরমাণু প্রযুক্তি ইরানের জাতীয় মর্যাদা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রতীক। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই সক্ষমতা নিয়ে আপস করা হবে না। তবে তিনি এটিও ইঙ্গিত দেন যে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির চেয়েও উন্নত একটি সমঝোতা সম্ভব—যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং বিনিময়ে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
বিশ্লেষকদের মধ্যে এই উদ্যোগ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। Quincy Institute for Responsible Statecraft-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ট্রিতা পার্সি মনে করেন, ইসরাইলি প্রভাবের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সক্ষমতাকে খাটো করে দেখছে এবং অতিরিক্ত দাবি তুলছে, যা আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সময়ে ইসরাইল ওয়াশিংটনের ওপর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সামরিক অবস্থান—দুটি সমান্তরাল বাস্তবতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেনেভার বৈঠক। এই সংলাপ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে; ব্যর্থ হলে অঞ্চলটি আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- রোনালদোকে নভেম্বরেই পর্তুগাল দলে ফেরাতে চান ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি
- নেপালে ফের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ঘরবাড়ি ও সেতু
- ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু সোমবার, বাড়ি বাড়ি যাবেন সরকারি কর্মীরা
- সাভারের বনগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু
- অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
- জাতীয় দলের শিবির ছাড়ায় ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রোনালদো
- রিয়াদ বিমানবন্দরে তৃতীয় দফা হামলার দাবি হুথিদের, ক্ষতিগ্রস্ত বিমান
- পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার
- মেসির বিদায়ে রোনালদোর আবেগঘন বার্তা, জানালেন ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা’
- ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন ভাস্কর্য ‘অরেঞ্জ প্লেগ’
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আজ পৌঁছাচ্ছে বাংলাদেশে
- পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার
- মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই, বেকায়দায় নিম্নবিত্তরা
- শেষ ম্যাচে গোল-অ্যাসিস্ট, সতীর্থদের ভালোবাসায় বিদায় মেসির
- জাতীয় দলের শিবির ছাড়ায় ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রোনালদো
- মেসির বিদায়ে রোনালদোর আবেগঘন বার্তা, জানালেন ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা’
- ৮ মাস পর চালু, দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা
- নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবার বাড়ল, ১০ শলাকা এখন ৬৫ টাকা
- অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
- সাভারের বনগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু




