• বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধাক্কা, পরিবার আনার সুযোগ সীমিত করছে অস্ট্রেলিয়া

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধাক্কা, পরিবার আনার সুযোগ সীমিত করছে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৩ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন নীতির আওতায় অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে তাদের পরিবারের সদস্যদের স্টুডেন্ট ভিসার সঙ্গে যুক্ত করে অস্ট্রেলিয়ায় নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ‘ভিসা হপিং’, ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় অবস্থানের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে দেশটির সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বৃহস্পতিবার নতুন অভিবাসন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। সরকারের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে নিট বৈদেশিক অভিবাসনের সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। আবাসন ও অবকাঠামোর ওপর চাপ বিবেচনায় নিয়ে অভিবাসন ব্যবস্থায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নতুন নিয়মে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের ক্ষেত্রে। অধিকাংশ নতুন শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট ভিসায় পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে যারা ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন এবং যাদের পরিবারের সদস্য বর্তমান ভিসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাদের পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করা হবে না। অর্থাৎ নতুন নিয়ম মূলত ভবিষ্যতে ইস্যু করা ভিসার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

সব শিক্ষার্থী অবশ্য একই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। পিএইচডির মতো নির্দিষ্ট উচ্চতর গবেষণা কোর্সের শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য নেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্যাসিফিক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্যও বিশেষ ভিসা শর্ত রাখার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার গত অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৭টি স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৯৯১টি ছিল সেকেন্ডারি অ্যাপ্লিক্যান্ট, অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাওয়া নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য।

পড়াশোনার নামে এক কোর্স থেকে অন্য অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কোর্সে গিয়ে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করতে চায় সরকার। তবে একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় উচ্চতর ডিগ্রিতে গেলে সেটিকে স্বাভাবিক ভিসা পরিবর্তন হিসেবে দেখা হবে। টনি বার্ক নিজেও বলেছেন, স্টুডেন্ট ভিসা থেকে গ্র্যাজুয়েট ভিসা এবং পরে দক্ষ কর্মী হিসেবে স্থায়ী হওয়ার মতো বৈধ পথকে সরকার ‘ভিসা হপিং’ হিসেবে বিবেচনা করছে না।

ওয়ার্কিং হলিডে ভিসাতেও বড় পরিবর্তন আসছে। দ্বিতীয় বছরের ভিসার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪৫ হাজারে সীমাবদ্ধ করা হবে। চলতি বছরে এই সুযোগের জন্য প্রায় ৫৭ হাজার ব্যক্তি যোগ্য হয়েছিলেন। তৃতীয় বছরের ক্ষেত্রে ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র ৫ হাজার আবেদনকারীকে সুযোগ দেওয়া হবে, যেখানে এ বছর এই শ্রেণিতে প্রায় ৩১ হাজার মানুষ ছিলেন।

তবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তনের কিছু অংশ প্রযোজ্য হবে না। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ ওয়ার্কিং হলিডে ভিসাধারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

অস্ট্রেলিয়া একই সঙ্গে দেশে অবস্থানরত প্রায় ৭৭ হাজার ভিসা ওভারস্টেয়ার বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যাওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ভিজিটর ভিসায় ‘No Further Stay’ শর্তের ব্যবহার বাড়ানোর কথাও নতুন নীতিতে রয়েছে।

অভিবাসন কমানোর পদক্ষেপের পেছনে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন সংকটও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে টনি বার্ক বলেছেন, দেশের আবাসন সংকট শুধু অভিবাসনের কারণে সৃষ্টি হয়নি। তার মতে, নতুন ঘর তৈরির গতি বাড়ানোর পাশাপাশি অভিবাসনের মাত্রাও এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে আবাসন সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিট বৈদেশিক অভিবাসন ইতোমধ্যেই কমছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক নিট বৈদেশিক অভিবাসন ছিল প্রায় ৩ লাখ ১ হাজার, যা কোভিড-পরবর্তী ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ৪৫ শতাংশেরও বেশি কম। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নিট অভিবাসনও এক বছরে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পড়াশোনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার নতুন শর্ত ও ব্যতিক্রমগুলো ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

বিজ্ঞাপন