• মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ থামিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে আলোচনায় আনল কীভাবে পাকিস্তান

যুদ্ধ থামিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে আলোচনায় আনল কীভাবে পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:২৯ ৮ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে Pakistan। বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক সাফল্য দেশটির বৈশ্বিক অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বার্তাসংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং আলোচনার পথ তৈরি করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif বলেন, তার সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

কেন সফল হলো পাকিস্তান?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের সাফল্যের পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ-

১. দুই পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক
পাকিস্তানের সঙ্গে Iran ও United States-উভয় দেশেরই কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তেহরানে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত Asif Durrani বলেন, এই অঞ্চলে একমাত্র দেশ হিসেবে পাকিস্তান দুই পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য।

২. ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক সংযোগ
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও দুই দেশের মধ্যে গভীর, যা আস্থার ভিত্তি তৈরি করেছে।

৩. যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান Asim Munir-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর ব্যক্তিগত সম্পর্কও এই মধ্যস্থতায় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বহুপাক্ষিক কূটনীতি

পাকিস্তান শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই থেমে থাকেনি; বরং Saudi Arabia, China, Turkey এবং Egypt-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে।

বিশেষ করে চীন, যা ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, পাকিস্তানের সঙ্গে সমন্বয় করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের নিজস্ব স্বার্থও এই মধ্যস্থতার পেছনে কাজ করেছে। কারণ Strait of Hormuz দিয়ে দেশটি তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

সামনে কী?

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ১০ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সরাসরি আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হলেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাই কমবে না, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পাকিস্তানের প্রভাবও আরও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/