• মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ বছরে আয় বেড়েছে ২২ গুণ, ধানমন্ডিতে ৫ কাঠা জমি ও ৫টি ফ্ল্যাটের মালিক: রুমিন ফারহানা

৬ বছরে আয় বেড়েছে ২২ গুণ, ধানমন্ডিতে ৫ কাঠা জমি ও ৫টি ফ্ল্যাটের মালিক: রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৪৪ ৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ঘোষিত আয় ও সম্পদে গত ছয় বছরে ব্যাপক পরিবর্তনের তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৯ সালে জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে ২০২৫ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দাখিল করা হলফনামা তুলনা করে দেখা গেছে, এই সময়ে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ২২ গুণের বেশি। একই সঙ্গে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়া রুমিন ফারহানা বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ছিল ৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে আয় ছিল ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। তবে ২০২৫ সালের হলফনামায় তার ঘোষিত বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। অর্থাৎ ছয় বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে অন্তত ২২ গুণ।

স্থাবর সম্পদে আমূল পরিবর্তন

২০১৯ সালের হলফনামায় রুমিন ফারহানা তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে কেবল একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা তিনি তার মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। ওই বছর একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র দুই মাস পর তিনি সরকারের কাছে ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদনও করেছিলেন। সংসদ সদস্যদের প্যাডে করা সেই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ঢাকায় তার নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাট, জমি বা বসতভিটা নেই।

কিন্তু ছয় বছর পর দাখিল করা সর্বশেষ হলফনামায় দেখা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তার নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাটটির পাশাপাশি ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে তার মালিকানায় রয়েছে ৫ কাঠা জমি ও একই এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট। এছাড়া পুরান ঢাকার পল্টনে ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক স্পেস রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। এসব সম্পদের অধিকাংশই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বলে উল্লেখ করায় ক্রয়মূল্য দেখানো হয়নি।

নগদ অর্থ ও সঞ্চয়ে বড় বৃদ্ধি

অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০১৯ সালে রুমিন ফারহানার হাতে নগদ অর্থ ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা। ২০২৫ সালের হলফনামায় সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ টাকা।

দুটি হলফনামাতেই তার নামে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা উপহার হিসেবে পাওয়া বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তার নামে কোনো শেয়ার, বন্ড বা অন্য বিনিয়োগ নেই বলে তিনি হলফনামায় জানিয়েছেন।

মামলা ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য

২০১৯ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান ছিল। সর্বশেষ হলফনামা অনুযায়ী, নতুন আরও একটি মামলাসহ আগের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে একই আদালতে।

নতুন হলফনামায় আসন্ন নির্বাচনে তার সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তিনি মোট ২৫ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় করবেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা আসবে তার নিজস্ব আয়ের উৎস আইন পেশা থেকে এবং বাকি ৫ লাখ টাকা তিনি ধার নেবেন তার খালাতো ভাই, প্রবাসী গালিব মেহেদীর কাছ থেকে।

প্রার্থীতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি এবার তাদের জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে ছেড়ে দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে রুমিন ফারহানা ওই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এর পরদিন ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বর্তমানে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান এ আসনের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/