• মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অ্যান্টার্কটিকায় কয়েক শত ভূমিকম্প শনাক্ত, ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ ঘিরে বিজ্ঞানীদের নতুন উদ্বেগ

অ্যান্টার্কটিকায় কয়েক শত ভূমিকম্প শনাক্ত, ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ ঘিরে বিজ্ঞানীদের নতুন উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:১৩ ৬ জানুয়ারী ২০২৬

পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মানুষের বসবাসের জন্য অনুপযোগী হলেও বৈশ্বিক জলবায়ু ও জীবজগতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ স্বাদু পানির ভাণ্ডার এখানে হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই বিশাল বরফভাণ্ডার এখন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহগুলো দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

এই হিমবাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত থওয়াইটস গ্লেসিয়ার, যা ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ নামেও পরিচিত। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই গ্লেসিয়ার এলাকায় কয়েক শত গ্লেসিয়াল ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। বিষয়টি বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ এসব ভূমিকম্প গ্লেসিয়ারের দ্রুত ভাঙন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গ্লেসিয়াল ভূমিকম্প সাধারণ ভূমিকম্পের মতো নয়। যখন বিশাল বরফখণ্ড হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমুদ্রে পড়ে, তখন কম ফ্রিকোয়েন্সির ভূকম্পীয় তরঙ্গ তৈরি হয়। এই ধরনের ভূকম্পনকে গ্লেসিয়াল ভূমিকম্প বলা হয়। এতে উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ না থাকায় এগুলো শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।

‘জিওগ্রাফিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’ জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এসব গ্লেসিয়াল ভূমিকম্পের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পগুলো ভবিষ্যতে গ্লেসিয়ারের ভাঙন ত্বরান্বিত করতে পারে এবং এর ফলে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দ্য কনভারসেশন-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষণার লেখক ও অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জিওফিজিক্স বিভাগের এআরসি ডিইসিআরএ ফেলো থ্যান-সন ফাম জানান, অ্যান্টার্কটিকায় স্থাপিত সিসমিক স্টেশন ব্যবহার করে তিনি ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে থওয়াইটস ও পাইন আইল্যান্ড গ্লেসিয়ারের আশপাশে ৩৬০টিরও বেশি গ্লেসিয়াল ভূমিকম্প শনাক্ত করেছেন।

তিনি আরও জানান, এর মধ্যে প্রায় ২৪৫টি ভূমিকম্প থওয়াইটস গ্লেসিয়ারের সামুদ্রিক প্রান্তে বরফখণ্ড ভেঙে সমুদ্রে পড়ার ফলে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ভূমিকম্প মূলত গ্লেসিয়ারের দ্রুতগতির স্থানান্তর ও অস্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, যদি থওয়াইটস গ্লেসিয়ার সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে, তবে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

গবেষকরা মনে করছেন, গ্লেসিয়াল ভূমিকম্প সম্পর্কে আরও গভীর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা গেলে ভবিষ্যতে গ্লেসিয়ারের ভাঙন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি সম্পর্কে আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই নীরব সংকেত তাই বিশ্ববাসীর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/