• বৃহস্পতিবার , ৩০ জুলাই, ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই: উয়েফা

বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই: উয়েফা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০৬ ২৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন এবং এর অংশবিশেষ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পদক্ষেপকে ‘ফুটবলের আত্মা বিক্রির অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উয়েফা এক চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে—ফুটবল বা বিশ্বকাপকে কোনো পণ্য হিসেবে বিক্রি করার অধিকার ফিফার নেই।

ফিফার গৃহীত প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (FFE) নামের একটি স্বতন্ত্র সহায়ক সংস্থা গঠন করা হবে, যা মূল ইভেন্টের বাণিজ্যিক বিষয়াদি দেখভাল করবে। বিশ্বজুড়ে ৪৮ দলের বিশাল বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারা বজায় রেখে ফিফা এই নতুন প্রতিষ্ঠানের একক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখলেও প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘মাইনোরিটি শেয়ার’ বিক্রির পরিকল্পনা করছে। জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারিবারিক সূত্রে সম্পর্কিত জশুয়া কুশনারের নেতৃত্বাধীন এক বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী এই মূল তহবিলের বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে।

ফিফার এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে চরম সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় ওঠে। উয়েফা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ফিফা এমন একটি প্রশাসনিক সীমা লঙ্ঘন করেছে যা খেলাটির অস্তিত্বের জন্য হুমকি। তারা কঠোর ভাষায় মনে করিয়ে দেয় যে, আন্তর্জাতিক ফুটবল বা এর ঐতিহ্য কোনো সাধারণ বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয় এবং এতে কোনো স্বচ্ছতা নেই। অন্যদিকে, ইউকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামসহ বিশ্বের বহু রাজনৈতিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিফার এই নীতিকে ক্রীড়ার মূল আদর্শের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।

কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েও অবশ্য নিজেদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এই সংস্থাটির দাবি, শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত নতুন অর্থ দিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের পরিকাঠামো নির্মাণ, প্রশিক্ষণ, জাতীয় দলগুলোর উন্নয়ন এবং তৃণমূল ও নারী ফুটবলের বিকাশে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হবে। তবে এই সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের ফিফা-উয়েফা মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় স্নায়ুযুদ্ধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

বিজ্ঞাপন