• মঙ্গলবার , ২১ জুলাই, ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের বাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে চীনা গাড়ি, পেছনে রয়েছে যে কারণগুলো

যুক্তরাজ্যের বাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে চীনা গাড়ি, পেছনে রয়েছে যে কারণগুলো

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০১ ২০ জুলাই ২০২৬

কয়েক বছর আগেও যুক্তরাজ্যের সড়কে চীনা গাড়ি খুব একটা দেখা যেত না। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে। এখন লন্ডনসহ দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বিওয়াইডি, গিলির মতো চীনা ব্র্যান্ডের গাড়ি নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।

কম দাম, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত নির্মাণমানের কারণে ব্রিটিশ ক্রেতাদের একটি অংশ এখন চীনা গাড়ির দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) বাজারে চীনা কোম্পানিগুলো দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

ইউরোপের বড় গাড়ির বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য বর্তমানে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

এক দশকে কয়েক শ গুণ বেড়েছে বিক্রি

অটোমোটিভ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোবিলিটি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যে চীনা গাড়ি বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৩৮৪টি। ২০২০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজারের বেশি। আর গত বছর চীনা ব্র্যান্ডের গাড়ি বিক্রি ২ লাখ ৮৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

অর্থাৎ মাত্র এক দশকের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যের বাজারে চীনা গাড়ির উপস্থিতি কয়েক শ গুণ বেড়েছে।

গিলির গাড়ি বিক্রি করা লিপসকম্ব কার্সের মতো বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতেও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। অনেক ক্রেতার মতে, একই দামের অন্য অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের তুলনায় চীনা গাড়িতে বেশি প্রযুক্তিগত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

ক্রেতা ক্রিস স্মিথ বলেন, “দামের তুলনায় গাড়িগুলো অনেক বেশি সুবিধা দিচ্ছে। অনেক নামী ব্র্যান্ড যেখানে বেশি দাম নিচ্ছে, সেখানে চীনা গাড়িগুলো একই বা কম দামে বেশি ফিচার দিচ্ছে।”

প্রযুক্তি ও দামে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান

অটোমোটিভ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্কের বিশ্লেষক উইল রবার্টস বলেন, কয়েক বছর আগেও যুক্তরাজ্যে চীনা গাড়ি ছিল অনেকের কাছে নতুন ও অপরিচিত বিষয়। কিন্তু এখন এসব গাড়ি দেশটির রাস্তায় স্বাভাবিক দৃশ্য হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, আগে লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিওয়াইডির গাড়ি দেখা বড় খবর ছিল। এখন এগুলো এতটাই পরিচিত হয়ে গেছে যে আলাদা করে নজরে পড়ে না।

চীনা গাড়ির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো তুলনামূলক কম দাম। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাজ্যে জার্মান নির্মিত একটি ফক্সভাগেন টিগুয়ান প্লাগ-ইন হাইব্রিডের দাম ৪৩ হাজার পাউন্ডের বেশি। একই ধরনের চীনা নির্মিত বিওয়াইডি সিল ইউয়ের দাম প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড কম।

রপ্তানিতে জোর দিচ্ছে চীনা গাড়ি নির্মাতারা

চীনের অভ্যন্তরীণ গাড়ির বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশটির গাড়ি নির্মাতারা এখন বিদেশি বাজারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীনের স্থানীয় গাড়ি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় কমেছে। একই সময়ে গাড়ি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে আরও একটি সুবিধা হলো, দেশটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী দামের গাড়ির চাহিদাও রয়েছে। এই দুই বিষয় চীনা গাড়ি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

পশ্চিমা গাড়ি নির্মাতাদের উদ্বেগ

চীনা গাড়ির উত্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে পশ্চিমা গাড়ি নির্মাতারা। তাদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তার কারণে চীনা কোম্পানিগুলো কম দামে গাড়ি বাজারজাত করতে পারছে।

তবে এসব অভিযোগ সত্ত্বেও চীনা গাড়ির আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ থামেনি।

জেনারেল মোটরসের সাবেক পরিচালক জন ম্যাকনিল বলেন, দাম ও প্রযুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই চীনা গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপীয় বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অনেক গাড়িতে এমন প্রযুক্তি রয়েছে, যা কিছু প্রতিষ্ঠিত ইউরোপীয় ব্র্যান্ডেও এখনো দেখা যায় না।

লিপসকম্ব কার্সের পরিবেশক জন পান্ডা-নোয়ার মতে, কম দাম ক্রেতাদের শোরুমে নিয়ে আসে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গাড়ির মান, নকশা ও নির্মাণের গুণগত মান দেখে তারা সিদ্ধান্ত নেন।

চীনা গাড়ির এই দ্রুত উত্থান এখন ইউরোপের প্রচলিত গাড়ি বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন