ড. মুহাম্মদ ইউনূস: দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে


প্রকাশিত: ০৭:২৬ ১৯ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাসে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন একাধিক ভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত। তিনি একদিকে শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ, অন্যদিকে ক্ষুদ্রঋণের পথিকৃৎ, সামাজিক ব্যবসার প্রবক্তা, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁকে আরও একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দায়িত্ব নিতে হয়—২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা।
তাঁর জীবনকাহিনি শুধু একজন মানুষের ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারণাকে প্রশ্ন করার, দরিদ্র মানুষের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখার এবং সংকটময় সময়ে একটি দেশকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথে পরিচালিত করার গল্প।
জন্ম ও শৈশব
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালের ২৮ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের একটি ব্যবসায়ী পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনা, সামাজিক কার্যক্রম এবং নেতৃত্বমূলক কাজে আগ্রহী ছিলেন। বিদ্যালয়জীবনে স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তিনি শৃঙ্খলা, দলগত কাজ এবং মানুষের সেবা করার শিক্ষা লাভ করেন।
পরবর্তীকালে এসব অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাধারায় গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি কেবল ব্যক্তিগতভাবে সফল হওয়ার কথা ভাবেননি; সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষকে কীভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, সেটিই ধীরে ধীরে তাঁর জীবনের প্রধান অনুসন্ধানে পরিণত হয়।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তী সময়ে ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যান এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি পড়ান। উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকতার এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আধুনিক অর্থনীতি, উন্নয়ননীতি এবং আন্তর্জাতিক সমাজ সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা দেয়।
মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি দায়বদ্ধতা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সে সময় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠিত করা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন এবং আন্তর্জাতিক মহলে মুক্তিযুদ্ধের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত হন।
স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে আসেন। একটি নতুন রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় সরাসরি অবদান রাখার ইচ্ছা থেকেই তাঁর এই প্রত্যাবর্তন। প্রথমে তিনি সরকারের পরিকল্পনা-সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত হন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তিনি উন্নয়ন অর্থনীতি পড়াতেন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি উপলব্ধি করেন—বইয়ের অর্থনৈতিক তত্ত্ব এবং গ্রামের দরিদ্র মানুষের বাস্তব জীবনের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং জীবনের মোড় পরিবর্তন
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ মুহাম্মদ ইউনূসের চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে বদলে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা করতেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় মানুষ খাদ্য ও অর্থের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিল।
এই বাস্তবতা তাঁকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়ে মানুষের জীবন কাছ থেকে দেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী জোবরা গ্রামে গিয়ে তিনি দরিদ্র মানুষের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। সেখানে তিনি দেখতে পান, অনেক মানুষ পরিশ্রম করতে এবং পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হলেও সামান্য মূলধনের অভাবে মহাজন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীল।
জোবরা গ্রামের বাঁশের মোড়া তৈরির সঙ্গে যুক্ত এক নারীর অভিজ্ঞতা তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। প্রয়োজনীয় বাঁশ কেনার অর্থ না থাকায় তাঁকে উচ্চ শর্তে মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিতে হতো এবং উৎপাদিত পণ্যও প্রায় লাভহীন মূল্যে সেই মহাজনের কাছে বিক্রি করতে হতো।
ইউনূস ও তাঁর শিক্ষার্থীরা অনুসন্ধান করে দেখেন, ৪২টি দরিদ্র পরিবারকে এই ঋণচক্র থেকে বের করে আনতে মোট প্রয়োজন মাত্র ২৭ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। তিনি নিজের পকেট থেকে সেই অর্থ ঋণ হিসেবে দেন। ক্ষুদ্র এই উদ্যোগ থেকেই জন্ম নেয় এমন একটি ধারণা, যা পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী ‘মাইক্রোক্রেডিট’ বা ক্ষুদ্রঋণ নামে পরিচিত হয়।
গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম
মুহাম্মদ ইউনূস প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করেন। ব্যাংক সাধারণত সেই ব্যক্তিকেই ঋণ দেয়, যার আগে থেকেই সম্পদ, আয় বা জামানত রয়েছে। ফলে যাদের কোনো সম্পদ নেই, তারা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়।
ইউনূসের প্রশ্ন ছিল, দরিদ্র মানুষকে অবিশ্বাস করার কারণ কী? শুধু জামানত নেই বলে একজন পরিশ্রমী মানুষ কেন অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে?
১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে একটি পরীক্ষামূলক ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প শুরু হয়। প্রথমদিকে বিভিন্ন ব্যাংকের সহায়তায় দরিদ্র মানুষের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা হলেও প্রচলিত ব্যাংকগুলো এই মডেলকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করত। ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে ঋণের নিশ্চয়তা দিতেন এবং প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন যে দরিদ্র মানুষও দায়িত্বশীল ঋণগ্রহীতা হতে পারে।
ক্রমে প্রকল্পটি জোবরা থেকে অন্য গ্রামে এবং পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮৩ সালে এটি একটি স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পায়। নাম দেওয়া হয় ‘গ্রামীণ ব্যাংক’, অর্থাৎ গ্রামের মানুষের ব্যাংক।
ক্ষুদ্রঋণের দর্শন
মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণার কেন্দ্রে ছিল মানুষের সক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস। তাঁর মতে, দরিদ্রতা দরিদ্র মানুষের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি হয় যে প্রতিভা ও পরিশ্রম থাকা সত্ত্বেও দরিদ্র মানুষ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না।
গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণের জন্য প্রচলিত অর্থে সম্পত্তির জামানত প্রয়োজন হতো না। ছোট ছোট দলে ঋণগ্রহীতারা যুক্ত হতেন এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও নিয়মিত কিস্তির মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করতেন। এই পদ্ধতিতে বিশেষভাবে গ্রামের নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।
ক্ষুদ্রঋণ শুধু অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। এর সঙ্গে সঞ্চয়, আত্মকর্মসংস্থান, পরিবার পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ও যুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ক্ষুদ্রঋণের অনুরূপ মডেল প্রয়োগ করা হয়।
তবে ক্ষুদ্রঋণকে দারিদ্র্য দূরীকরণের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা হয় না। ঋণের ব্যবহার, সুদের হার, ঋণ পরিশোধের চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশে আলোচনা ও সমালোচনাও হয়েছে। তা সত্ত্বেও আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা দরিদ্র মানুষকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অংশ করার ক্ষেত্রে ইউনূসের উদ্যোগ একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সূচনা করে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার
২০০৬ সালে মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে। নোবেল কমিটি তাদের পুরস্কৃত করে সমাজের নিচের স্তর থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সৃষ্টির প্রচেষ্টার জন্য।
এই স্বীকৃতির তাৎপর্য ছিল গভীর। নোবেল কমিটি দারিদ্র্য ও শান্তির মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে মানুষের অর্থনৈতিক মর্যাদা, জীবিকা এবং উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইউনূসের কাজ দেখিয়েছিল, দরিদ্র মানুষের হাতে সামান্য অর্থনৈতিক সুযোগ পৌঁছে দিয়েও সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।
এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশও বিশ্বে একটি নতুন পরিচিতি লাভ করে—এমন একটি দেশ হিসেবে, যেখান থেকে দারিদ্র্য মোকাবিলার একটি অভিনব অর্থনৈতিক ধারণা জন্ম নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
নোবেল পুরস্কারের পাশাপাশি মুহাম্মদ ইউনূস বহু আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন। ২০০৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ এবং ২০১০ সালে ‘কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল’-এর জন্য মনোনীত হন; ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল গ্রহণ করেন।
এই সম্মাননাগুলো তাঁকে শুধু একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে নয়, মানবিক উন্নয়ন ও সামাজিক উদ্যোগের বৈশ্বিক প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সংস্থা, সরকার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তাঁর ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার ধারণা নিয়ে গবেষণা ও কার্যক্রম শুরু হয়।
সামাজিক ব্যবসার ধারণা
ক্ষুদ্রঋণের পর মুহাম্মদ ইউনূস ‘সামাজিক ব্যবসা’ ধারণাকে জনপ্রিয় করেন। প্রচলিত ব্যবসার প্রধান লক্ষ্য যেখানে মালিক বা বিনিয়োগকারীর মুনাফা বৃদ্ধি, সেখানে সামাজিক ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হলো একটি নির্দিষ্ট সামাজিক সমস্যার সমাধান করা।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে দাতব্য সংস্থার মতো অনুদানের ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না। এটি পণ্য বা সেবা বিক্রি করে নিজের ব্যয় পরিচালনা করে। তবে অর্জিত মুনাফা ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের সামাজিক উদ্দেশ্য সম্প্রসারণে পুনর্বিনিয়োগ করা হয়।
দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থানের মতো বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এই মডেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, মানুষ শুধু ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য কাজ করে না; মানুষের মধ্যে অন্যের জন্য কিছু করার এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানের প্রবণতাও রয়েছে।
সংঘাত, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বিদায় এবং আইনি জটিলতা
মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মজীবন বিতর্কমুক্ত ছিল না। ২০০৭ সালে তিনি ‘নাগরিক শক্তি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।
২০১১ সালে বয়সসীমাসংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে তাঁকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আদালতে সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জ করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অপসারণ বহাল থাকে। তাঁর সমর্থকেরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিরোধের ফল হিসেবে দেখতেন, অন্যদিকে তৎকালীন সরকার এটিকে আইন ও প্রশাসনিক নিয়মের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।
পরবর্তী বছরগুলোতে তাঁর প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক মামলা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের একটি মামলায় তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হয়রানি হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল সেই দণ্ড বাতিল করে তাঁকে ও অন্য আসামিদের খালাস দেয়।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সূচনা
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রাথমিক দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ বৃদ্ধি এবং কোটা ব্যবস্থার সংস্কার।
১ জুলাই থেকে আন্দোলন সংগঠিতভাবে বিস্তৃত হতে থাকে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, সরকার-সমর্থিত সংগঠন এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ, গণগ্রেপ্তার এবং প্রাণহানির কারণে কোটা সংস্কারের দাবি ক্রমে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের পরবর্তী অনুসন্ধানে বলা হয়, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সাবেক সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত সহিংস উপাদানগুলোর মাধ্যমে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যা, অতিরিক্ত বল প্রয়োগ, নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং হাজারো মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়।
আন্দোলনে ড. ইউনূসের অবস্থান
২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় মুহাম্মদ ইউনূস সরাসরি আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন না। তিনি তখন দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তবে তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান এবং সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে গিয়ে দেশত্যাগ করার পর দেশে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করে। শিক্ষার্থীদেরাব করে যুক্তি ছিল, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, দলনিরপেক্ষ এবং সংস্কারমুখী একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
সেনাবাহিনী, রাষ্ট্রপতি, ছাত্রনেতা এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলোর আলোচনার পর তাঁকে প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি সে সময় চিকিৎসার জন্য প্যারিসে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ গ্রহণ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর সঙ্গে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী এবং আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়।
শপথ গ্রহণের সময় তাঁর বয়স ছিল ৮৪ বছর। জীবনের অধিকাংশ সময় অর্থনীতি, শিক্ষা, ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসা নিয়ে কাজ করার পর তিনি প্রথমবারের মতো সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শিক্ষার্থীদের দেখানো পথ অনুসরণ করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তাঁর সামনে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ ছিল আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, প্রশাসন সচল করা, সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি।
।
ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাজকে মূলত তিনটি বৃহৎ লক্ষ্যের মধ্যে দেখা হয়েছিল—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন।
প্রথমত, এমন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা, যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে চলে না যায়।
দ্বিতীয়ত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা, নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
তৃতীয়ত, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনব্যবস্থা, সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারের উদ্দেশ্যে ছয়টি প্রধান কমিশন গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি খাতেও সংস্কার উদ্যোগ নেওয়।
জবাবদিহি ও জাতিসংঘের তদন্ত
অন্তর্বর্তী সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল জুলাই-আগস্টের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনুসন্ধানকে স্বাগত জানানো। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ড. ইউনূস জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকে একটি স্বাধীন অনুসন্ধানের অনুরোধ জানান। ২৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে তদন্ত দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জাতিসংঘের তদন্ত দল বাংলাদেশে এসে ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার নেয়। তদন্তে হত্যাকাণ্ড, বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, নির্বিচার আটক এবং নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাও পর্যালোচনা করা হয়।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউনূস সরকার দেখাতে চেয়েছিল যে আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপরাধের অনুসন্ধান শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করবে না; আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রমাণ ও তদন্তের ভিত্তিতে জবাবদিহির চেষ্টা করা।
সাফল্য, সীমাবদ্ধতা ও সমালোচনা
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সহজ ছিল না। সরকারকে এমন একটি সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়, যখন পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আস্থার সংকট ছিল এবং আন্দোলনের পর প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
ইউনূস সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের আলোচনা শুরু করে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করে এবং নির্বাচনের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয়। তবে সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা, নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণায় বিলম্ব, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব, নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতা এবং কিছু ক্ষেত্রে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগের সমালোচনাও ওঠে।
একদিকে আন্দোলনের সমর্থকেরা দ্রুত সংস্কার ও পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইছিলেন। অন্যদিকে বড় রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছিল। ফলে ইউনূস সরকারকে সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত সময় নেওয়া এবং নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বৈধতা ফিরিয়ে আনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করত।
নির্বাচন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর
অন্তর্বর্তী সরকারের চূড়ান্ত পরীক্ষা ছিল একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। দীর্ঘ আলোচনা, সংস্কার প্রস্তাব এবং রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়।
এই ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে প্রায় ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী শাসনের সমাপ্তি ঘটে। আন্দোলনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা থেকে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করাই ছিল তাঁর সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দায়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জীবনকে একটি মাত্র পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা কঠিন। তিনি অধ্যাপক হিসেবে অর্থনীতি পড়িয়েছেন, গবেষক হিসেবে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করেছেন, উদ্যোক্তা হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং চিন্তাবিদ হিসেবে সামাজিক ব্যবসার একটি বিকল্প দর্শন উপস্থাপন করেছেন।
তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ছোট সমস্যার মধ্যে বড় কাঠামোগত প্রশ্ন খুঁজে পাওয়া। জোবরা গ্রামের কয়েকজন মানুষের ঋণসংকট দেখে তিনি পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর কাজ দেখিয়েছিল, সম্পদহীন মানুষও অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে এবং দারিদ্র্যকে মানুষের স্থায়ী পরিচয় হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।
২০২৪ সালে তাঁর সামনে ভিন্ন ধরনের পরীক্ষা আসে। এবার তাঁকে একটি ব্যাংক বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান নয়, বিভক্ত ও সংকটগ্রস্ত একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়। অর্থনীতির তত্ত্ব, সামাজিক ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে নৈতিক নেতৃত্বের ভিত্তি দিলেও রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতা ছিল অনেক বেশি জটিল। সেখানে আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, অর্থনীতি ও নির্বাচনের প্রশ্ন একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়েছে।
উপসংহার
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জীবন বাংলাদেশের সম্ভাবনা, সংকট ও পরিবর্তনের একটি প্রতীকী প্রতিচ্ছবি। তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল একজন শিক্ষক হিসেবে। এরপর তিনি দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যাংকিংয়ের দরজা খুলে দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হন। নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁকে আন্তর্জাতিক মর্যাদার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ তাঁর জীবনে সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায় যোগ করে।
তাঁর সব উদ্যোগ সমানভাবে সফল বা বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। ক্ষুদ্রঋণের প্রভাব, গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা, সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তবে একটি বিষয় অস্বীকার করা কঠিন—তিনি বাংলাদেশ থেকে জন্ম নেওয়া এমন কিছু ধারণাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক মর্যাদা এবং সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষের চিন্তাকে বদলে দিয়েছে।
জোবরা গ্রামের ২৭ ডলারের ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকে নোবেল পুরস্কার, এবং সেখান থেকে একটি দেশের অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনা—ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জীবন প্রমাণ করে, কখনো কখনো ইতিহাসের বড় পরিবর্তন শুরু হয় খুব ছোট একটি প্রশ্ন থেকে: যে মানুষটির কিছুই নেই, তাকে সুযোগ দিলে সে কী করতে পরে?
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - জীবনী
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: ছাত্ররাজনীতি থেকে জুলাই-পরবর্তী নতুন ধারার রাজনীতির মুখ
- মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রমের অভিযোগ, ২ আসামির স্বীকারোক্তি
- সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও অ্যাকশন দৃশ্যে দীপিকা
- সংস্কার ছাড়া চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ সম্ভব নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- যুক্তরাজ্যের বাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে চীনা গাড়ি, পেছনে রয়েছে যে কারণগুলো
- গোল্ডেন বুট এমবাপ্পের, গোল্ডেন বল স্পেনের রদ্রির, সিলভার বল পেলেন মেসি
- ইউক্রেন যুদ্ধে সহযোগিতার জন্য উত্তর কোরিয়াকে ধন্যবাদ পুতিনের
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে এসে আটক ৪, জাল পরীক্ষার্থী দিয়ে ভাইভা দেওয়ার অভিযোগ
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস: দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে
- ফেসবুকে সাময়িক বিভ্রাট, লগইন ও ব্যবহারে সমস্যা
- জনগণের প্রতিনিধি শামীম কায়সার লিংকনের জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা
- ডা. শফিকুর রহমান: জীবন, চিকিৎসা পেশা ও রাজনৈতিক পথচলা
- ত্রিশালে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার
- এক সময় ঘুমাতেন রাস্তায়, আজ বিশ্বকাপের নায়ক
- সৌদিতে শুটিংয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করলেন হলিউড অভিনেতা জিয়ানকার্লো এসপোসিতো
- জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর, আনন্দে জাতীয় ছুটি ঘোষণা
- ধাপে ধাপে হবে স্থানীয় সরকার ভোট, শেষ হতে পারে ২০২৭ সালে
- ১ জুলাই থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর পেমেন্ট
- মেসিকে বিশ্বসেরা মানলেও ইয়ামালের আদর্শ নেইমার
- তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ




