• বৃহস্পতিবার , ২১ মে, ২০২৬ | ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে বাজারে আসছে ‘ট্রাম্প মোবাইল’

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে বাজারে আসছে ‘ট্রাম্প মোবাইল’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:০৫ ২১ মে ২০২৬

প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা, প্রতিশ্রুতি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বাজারে আসছে বহুল আলোচিত ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিবারের উদ্যোগে ঘোষিত এই স্মার্টফোনকে ঘিরে শুরু থেকেই প্রযুক্তি বিশ্বে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। তবে দেরি, শর্ত পরিবর্তন এবং উৎপাদন নিয়ে নানা প্রশ্নের কারণে ফোনটি নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। এখন অবশেষে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করবে স্বর্ণখচিত এই ডিভাইস।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিবারের ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফোনটির ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় ট্রাম্প পরিবারের পক্ষ থেকে আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে অগ্রিম জামানত নেওয়া হয়। ফোনটি আগস্টেই বাজারে আসবে বলা হলেও নানা কারণে বারবার পিছিয়ে যায় এর সরবরাহ। প্রায় এক বছর পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রি-অর্ডার করা গ্রাহকদের কাছে এখন ধাপে ধাপে ফোন পাঠানো শুরু হয়েছে।

‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ নামে পরিচিত এই ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯৯ ডলার। স্বর্ণালী রঙের বাহ্যিক ডিজাইন ও দেশপ্রেমের প্রতীকী উপস্থাপনার কারণে এটি শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। ফোনটির সঙ্গে ‘৪৭ প্ল্যান’ নামে একটি ভয়েস ও ডেটা প্যাকেজও রয়েছে, যার মাসিক মূল্য ৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট-যা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে ফোনটি নিয়ে বিতর্কও কম নয়। শুরুতে এটি ‘মেইড ইন ইউএসএ’ বা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বলে প্রচারণা চালানো হলেও পরে সে দাবি থেকে সরে আসে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। এখন প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ফোনটি ‘আমেরিকান মূল্যবোধ ও উদ্ভাবনের আলোকে’ তৈরি এবং যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসেম্বল করা হয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, ফোনটির ডিজাইন ও ফিচার বাজারে থাকা কিছু চীনা মডেলের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে মিল রয়েছে।

এদিকে প্রি-অর্ডার নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। ওয়েবসাইটের শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০০ ডলার জমা দিলেই ফোন পাওয়ার নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। অর্থাৎ যারা আগে অগ্রিম অর্থ দিয়েছেন, সবাই যে ফোনটি পাবেন- এমন নিশ্চয়তা নেই। এই পরিবর্তিত নীতিমালা অনেক ক্রেতার মধ্যে অসন্তোষও তৈরি করেছে।

এ ছাড়া ফোনটির নকশা, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিবারের নামে ব্যবসায়িক ব্র্যান্ড পরিচালনার নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক পণ্য বাজারজাত করার বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্বের নজর এখন একটাই- দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হাতে পৌঁছানোর পর বাস্তবে ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কিনা, নাকি এটি শুধু আলোচনার কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/