• বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট, ২০২৬ | ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ নিয়ে আরাগচির কড়া প্রতিক্রিয়া, বললেন ‘নজর ঘোরানোর কৌশল’

ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ নিয়ে আরাগচির কড়া প্রতিক্রিয়া, বললেন ‘নজর ঘোরানোর কৌশল’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৮ ২০ আগস্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ শুরুর হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এসব মন্তব্য করেন আব্বাস আরাগচি।

ট্রাম্পের ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ নিয়ে আরাগচির মন্তব্য

আরাগচি বলেন, তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অভূতপূর্ব ঋণ এবং দ্রুত বাড়তে থাকা সুদের ব্যয়ের মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যর্থ নীতিগুলো বারবার জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নতুন করে পরাজয় ডেকে আনতে পারে। একই সঙ্গে এর ফলে ইরানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিরূপ মনোভাব আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা

আরাগচির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

তিনি মার্কিন অর্থনৈতিক নীতিকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেন।

ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযানের হুমকি ট্রাম্পের

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ চালু করতে যাচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানকে যেকোনো উপায়ে সমর্থনকারী দেশগুলোকে গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

ট্রাম্প এ পদক্ষেপকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইরানের হুমকি মোকাবিলা ও দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি এবং এর জবাবে আরাগচির কড়া বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও আলোচনায় এসেছে। ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তেহরান এর কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

বিজ্ঞাপন