প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে উসকে দিয়ে গৃহযুদ্ধ লাগানোর-চেষ্টা করেছেন: চিফ প্রসিকিউটর


প্রকাশিত: ০৪:১৩ ২৩ অক্টোবর ২০২৫
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর ২০২৫) চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গন্ডগোল সৃষ্টির—এমনকি সেনাবাহিনীকে উসকে দিয়ে সিভিল ওয়ার বা গৃহযুদ্ধ লাগানোর—চেষ্টা করেছেন। ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ও তাঁর দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এদিন প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয় ।
চিফ প্রসিকিউটরের অভিযোগে বলা হয়, মামলার প্রধান দুই আসামি—শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান—কোনো অনুশোচনা দেখাননি। বরং যাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁদের হত্যার হুমকি, বাড়িঘর ধ্বংস এবং লাশ বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়ার হুমকির মতো বিবৃতি দিয়েছেন। প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন আর্থসামাজিক শ্রেণির মানুষ—শিশু, নারী, শ্রমিক ও ছাত্রদের লক্ষ্য করে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন এবং এখনও কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি ।
এ মামলায় মোট তিনজন আসামি রয়েছেন—শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মামুন পরে নিজের দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রোভার’ (রাজসাক্ষী) হয়েছেন। প্রসিকিউটরের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় আদালত রায় ঘোষণার জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে ।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হত্যাযজ্ঞ, আহত ও অঙ্গহানির ঘটনায় বিপুল ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও আসামিদের মধ্যে অনুশোচনার অভাব রয়েছে। তাই তিনি আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিচার প্রক্রিয়া বর্তমানে সুষ্ঠুভাবে চলছে এবং দেশের সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো উসকানিতে প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
বহু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং স্থানীয় পত্রিকা এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিছু প্রতিবেদনে প্রসিকিউটরের মৃত্যুদণ্ড দাবিসহ মামলার সাম্প্রতিক তদন্তধাপ ও গ্রেপ্তারকৃত সামরিক কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, বিচারের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের মুখোমুখি করা হবে এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে। তবে মামলার স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগততা নিয়ে দেশি–বিদেশি মহলে প্রশ্নও উঠেছে ।
প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আদালত রায় ঘোষণার একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাইব্যুনালে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ও প্রসিকিউটরের কঠোর বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। দেশীয় বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড—দুটির প্রতিই এখন নজর থাকবে, কারণ এই মামলাগুলো কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও প্রভাব ফেলছে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - জাতীয়
- কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ল চালের দাম, ডিম-মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই
- মুম্বাইয়ে আটক হওয়ার পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখালেন আমির খানের ভাতিজি
- রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি, জামায়াত নেতার উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাশেদ খাঁনের অভিযোগ
- ভবিষ্যৎ ফুটবলের ১০ তারকা বেছে নিলেন মেসি, তালিকায় কারা?
- দিল্লিতে ফের বিক্ষোভের প্রস্তুতি, পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিল ককরোচ জনতা পার্টি
- জ্বালানিনিরাপত্তায় সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা চায় বাংলাদেশ
- রোনালদোকে নভেম্বরেই পর্তুগাল দলে ফেরাতে চান ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি
- নেপালে ফের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ঘরবাড়ি ও সেতু
- ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু সোমবার, বাড়ি বাড়ি যাবেন সরকারি কর্মীরা
- সাভারের বনগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আজ পৌঁছাচ্ছে বাংলাদেশে
- পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার
- শেষ ম্যাচে গোল-অ্যাসিস্ট, সতীর্থদের ভালোবাসায় বিদায় মেসির
- জাতীয় দলের শিবির ছাড়ায় ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রোনালদো
- মেসির বিদায়ে রোনালদোর আবেগঘন বার্তা, জানালেন ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা’
- ৮ মাস পর চালু, দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা
- অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
- নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবার বাড়ল, ১০ শলাকা এখন ৬৫ টাকা
- সাভারের বনগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু
- প্রেম, অভিমান আর ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি’: রুদ্র–তসলিমার অজানা গল্প




