• বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাব বিলুপ্ত, যাত্রা শুরু এসআরবির; বদলাবে পোশাক-লোগো-যানবাহনের রং

র‍্যাব বিলুপ্ত, যাত্রা শুরু এসআরবির; বদলাবে পোশাক-লোগো-যানবাহনের রং

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩২ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই দশকের বেশি সময় পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হলো র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব। এর জায়গায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি। ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’ কার্যকর হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নামে বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে র‍্যাব বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। নতুন আইনটি ২০২৬ সালের ১৯ নম্বর আইন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এসআরবি বিল পাস হয়। আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯-এ র‍্যাব গঠন ও পরিচালনাসংক্রান্ত বিধানগুলো রহিত হয়েছে।

তবে নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সবকিছু বদলে যাচ্ছে না। এসআরবির নিজস্ব পোশাক, লোগো, সদস্যদের ব্যাজ এবং যানবাহনের রং চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এসব পরিবর্তন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে আপাতত র‍্যাবের ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম, যানবাহন ও অবকাঠামো নতুন বাহিনী ব্যবহার করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২০০৪ সালে গঠিত র‍্যাব দেশের বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ইউনিট হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছে। নতুন আইনে বাহিনীটির নাম ও আইনি কাঠামো বদলালেও এর বিদ্যমান জনবল ও সম্পদের বড় অংশ সরাসরি এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী র‍্যাবের সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এসআরবির কাছে স্থানান্তরিত হবে। একই সঙ্গে র‍্যাবের তহবিল, নগদ অর্থ, ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়-দেনা, বিভিন্ন চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাবের বই, রেজিস্টার, রেকর্ড এবং অন্যান্য নথিও নতুন ইউনিটের অধীনে যাবে।

এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ এবং অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে ইউনিটটিতে যুক্ত করা যাবে। বাহিনীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা থাকার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন বাহিনীর প্রধান কাজ হবে জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা এবং গুরুতর অপরাধ দমন। মাদক পাচার, মানবপাচার, সাইবার অপরাধ, বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক, অপহরণ, হত্যা এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ মোকাবিলাও এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে থাকবে।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। আইন ও প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করে বাহিনীটি তল্লাশি, গ্রেফতার এবং আলামত বা সম্পত্তি জব্দ করতে পারবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে নির্দিষ্ট অপরাধের তদন্ত পরিচালনার সুযোগও রয়েছে।

নতুন আইনে জবাবদিহির বিষয়েও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। অভিযোগ যাচাই করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে কমিটি।

শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার বিধানও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে র‍্যাবের বিরুদ্ধে আগে থেকে চলমান বিভাগীয় শাস্তিমূলক কার্যক্রম বা আদালতের কার্যক্রম নতুন আইন কার্যকর হওয়ার কারণে বাতিল হবে না। র‍্যাবের ২০০৫ সালের কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারাসংক্রান্ত বিধিমালাও নতুন বিধি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

তবে র‍্যাবের অধিকাংশ জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ এসআরবিতে স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিতর্কও হয়েছে। বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য নতুন বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান এবং পুরোনো কাঠামোর বড় অংশ বহাল থাকায় প্রকৃত পরিবর্তনের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে সংসদীয় কমিটির আলোচনায় বিদ্যমান দক্ষ জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফলে ২২ বছরের বেশি সময় ধরে পরিচিত র‍্যাব নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেও মাঠপর্যায়ে পরিবর্তন হবে ধাপে ধাপে। নতুন পোশাক, প্রতীক, ব্যাজ ও যানবাহনের রং চালু হলে এসআরবির আলাদা পরিচয় আরও দৃশ্যমান হবে। একই সঙ্গে নতুন আইনে রাখা জবাবদিহি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিও নতুন বাহিনীটির কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

বিজ্ঞাপন