• রবিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে অটোরিকশা, চলবে অভ্যন্তরীণ সড়কে ৮ জোনে

রাজধানীর প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে অটোরিকশা, চলবে অভ্যন্তরীণ সড়কে ৮ জোনে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৭ ৩০ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে নির্দিষ্ট জোনের মাধ্যমে এসব অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ রাখা হবে। যানজট কমানো, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীকে মোট ৮টি জোনে ভাগ করে অভ্যন্তরীণ সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হতে পারে। ফলে প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধ হলেও নির্ধারিত এলাকার ভেতরে যাত্রী পরিবহনে এগুলো ব্যবহার করা যাবে।

প্রধান সড়কে কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে অটোরিকশা

রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যান চলাচলে ধীরগতি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এসব যানবাহনের চলাচল অনেক সময় অন্যান্য যানবাহনের গতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা। একই সঙ্গে অটোরিকশার যাত্রীসেবা পুরোপুরি বন্ধ না করে নির্দিষ্ট অভ্যন্তরীণ সড়কে এর চলাচল সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা।

৮ জোনে চলবে অটোরিকশা

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোকে ৮টি জোনে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। নির্ধারিত জোনের ভেতরে অটোরিকশাগুলো চলাচল করতে পারবে। তবে এক জোন থেকে অন্য জোনে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান সড়ক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হবে।

এ ব্যবস্থার ফলে অটোরিকশাগুলো স্থানীয় যাত্রীদের স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে প্রধান সড়কগুলোতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা থাকবে।

যাত্রীদের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশার ওপর নির্ভর করেন অনেক মানুষ। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা থেকে প্রধান সড়ক, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গন্তব্যে পৌঁছাতে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হলে যাত্রীদের এক জোন থেকে অন্য জোনে যেতে বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হতে পারে। ফলে যাত্রীদের যাতায়াতের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে নির্দিষ্ট জোনের মধ্যে অটোরিকশা চালু রাখার পরিকল্পনা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর সেবা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

চালকদের জন্য নতুন নিয়ম হতে পারে

নতুন ব্যবস্থায় অটোরিকশার চালকদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও চলাচলের সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। কোন সড়কে অটোরিকশা চলবে, কোথায় চলবে না এবং নির্ধারিত জোনের বাইরে গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় চূড়ান্ত নীতিমালায় স্পষ্ট করা হতে পারে।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলিত করার বিষয়টিও পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

যানজট কমানোই মূল লক্ষ্য

রাজধানীর যানজট দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে ঢাকার সড়কে চলাচল করেন। যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সড়কের সীমিত সক্ষমতা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যার কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় যানজট তৈরি হয়।

প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি কিছুটা স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ নয়

নতুন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে না। বরং প্রধান সড়ক থেকে এসব যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে নির্দিষ্ট ৮টি জোনের মধ্যে চলাচলের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এতে একদিকে প্রধান সড়কের যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমানোর চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী পরিবহনে অটোরিকশার ব্যবহার অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকবে।

তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে কোন কোন সড়ক প্রধান সড়ক হিসেবে বিবেচিত হবে, ৮টি জোনের সীমানা কী হবে এবং চালকদের জন্য কী ধরনের নিয়ম থাকবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় এ পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে অটোরিকশা চালক, যাত্রী এবং অন্যান্য যানবাহন ব্যবহারকারীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। তাই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সুবিধা ও অসুবিধা বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন