• শনিবার , ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ, মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন

তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ, মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:০১ ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উত্তরার বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এবং চাকরি হারানোকে ঘিরে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কেন আলোচনায় তাহসিফ সাউরি?
তাহসিফ সাউরিকে ঘিরে আলোচনার অন্যতম কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও। ওই ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে সে সময় একটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তাহসিফের নামও আসে।

তবে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে জানায়, তাহসিফ সাউরি ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফীকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে অবসর দেওয়া হয়নি। বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তাঁদের অবসর দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। 
মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারেও এ অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছিলেন তাহসিফ। ভিডিও ধারণ বা প্রচারের অভিযোগের পক্ষে কর্তৃপক্ষের কাছে কী প্রমাণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শৃঙ্খলাজনিত কারণ দেখিয়ে তাঁকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চাকরি ছাড়ার পর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নেত্র নিউজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
যেভাবে নিখোঁজ হন তাহসিফ
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার দিনের বেশির ভাগ সময় মায়ের সঙ্গে কাটান তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার পর পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের ডাকে উত্তরার বাসা থেকে বের হন তিনি।

পরিবারের দাবি, গভীর রাতে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে শেষ বার্তা আসে, ‘আম্মু আমি আসছি’। এরপর থেকে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 

মৃত্যুর কারণ নিয়ে কী বলছে পুলিশ?
নৌ-পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 
এদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের দাবি, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ছেলে আগে কখনো রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় যাননি। পরিচিত একজনের ডাকে বের হওয়ার পর এমন নির্জন এলাকায় তাঁর মরদেহ পাওয়ায় তিনি হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা করছেন।

সব মিলিয়ে সাবেক এই বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যু ঘিরে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে—বিমানবাহিনী থেকে তাঁর অবসর, ৫ আগস্টের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার। তবে এসব ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে স্বজন ও সাধারণ মানুষ।

বিজ্ঞাপন