• রবিবার , ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ | ২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুকে সরানোর পথে বড় সুযোগ, ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন আইজেনকট

নেতানিয়াহুকে সরানোর পথে বড় সুযোগ, ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন আইজেনকট

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৩ ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের সামনে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আইজেনকটকে মনোনীত করেছেন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে আইজেনকটের হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি সফল হলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসনের অবসান ঘটতে পারে।

আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আইনপ্রণেতার সমর্থন

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। সাতজন কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করেননি।

আইজেনকট ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান এবং ইয়াশার (Yashar) দলের নেতা। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।

সরকার গঠনে সামনে কঠিন সমীকরণ

প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দায়িত্ব পেলেও আইজেনকটের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন।

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে কোনো পক্ষেরই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।

এ পরিস্থিতিতে আরব-সমর্থিত দলগুলোর সমর্থন আইজেনকটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব দলের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে।

নেতানিয়াহুর সতর্কবার্তা

আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামপন্থীদের ওপর নির্ভরশীল সরকার ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।

অন্যদিকে আইজেনকট নতুন সরকারকে জাতীয় জরুরি সরকার হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকার গঠনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সরকার গঠনে সময় পাবেন ২৮ দিন

নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আইজেনকটের সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় থাকবে। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন।

এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে অন্য কোনো প্রার্থীকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ধারাবাহিকভাবে কেউ সফল না হলে নতুন নির্বাচনের পথও তৈরি হতে পারে।

ফলে আইজেনকটের এই দায়িত্ব পাওয়া নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও ইসরায়েলে ক্ষমতার পরিবর্তন এখনো নিশ্চিত নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক আলোচনা ও জোট গঠনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দেশটির পরবর্তী সরকার কে গঠন করবেন।

বিজ্ঞাপন