আবরার ফাহাদ হত্যার ৭ বছর, চূড়ান্ত বিচার না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ


প্রকাশিত: ০২:১২ ৭ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে দণ্ড বহাল থাকলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি, আর চার দণ্ডিত আসামি পলাতক থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নির্যাতনের পর মারা যান আবরার ফাহাদ। মামলার অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার তৎকালীন কয়েকটি চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার পর তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে রাতের দিকে হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আবরারের পরিবার এখনো তার ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করে রেখেছে। কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশের বাড়িতে রয়েছে তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পড়ার টেবিল ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী।
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বুলু জানিয়েছেন, মামলার দণ্ডিত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর না হওয়ায় পরিবার হতাশ। একই সঙ্গে ছেলের প্রত্যাশিত একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখার আকাঙ্ক্ষার কথাও বলেছেন তিনি।
আবরারের বাবা বলেন, “দেশকে নিয়ে আবরার ফাহাদের যেই স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখতে চাই।”
তিনি ভারত সম্পর্কে আবরারের অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে নিজের রাজনৈতিক মূল্যায়নও প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বার্থ নিয়ে প্রতিবাদ করাই আবরারের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে আবরার ফাহাদের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুরও নাতি হত্যার মামলার রায় কার্যকর হতে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
আবরার হত্যা মামলার বিচার কোথায় দাঁড়িয়ে
হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস পর ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরের বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন। ফলে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।
তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এখনো মূল আপিলের শুনানি শুরু হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে মামলাটি এখনো আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠেনি।
চার দণ্ডিত আসামি এখনো পলাতক
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২০ আসামির মধ্যে তিনজন বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকেই পলাতক। তারা হলেন মোর্শেদ-উজ-জামান, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ।
এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুনতাসির আল জেমি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান।
ফলে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় দণ্ডিত মোট ২৫ আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে পলাতক।
সাত বছর পরও মামলার চূড়ান্ত বিচার শেষ না হওয়া এবং দণ্ডিতদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হওয়ায় পরিবারের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি এবং রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন আবরারের স্বজনরা।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - জাতীয়
- রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ থেকে বাদ ১০০ মিনিটের বেশি দৃশ্য
- শেষ ম্যাচে গোল-অ্যাসিস্ট, সতীর্থদের ভালোবাসায় বিদায় মেসির
- ওকিনাওয়ায় হত্যা মামলার পর মার্কিন সেনাদের কারফিউ, মদপানে নিষেধাজ্ঞা
- আবরার ফাহাদ হত্যার ৭ বছর, চূড়ান্ত বিচার না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ
- নারী এল ক্লাসিকোতে বার্সার তাণ্ডব, ৭ গোলে বিধ্বস্ত রিয়াল
- বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক, রাজ্যসভায়ও হলেন প্রার্থী
- ১০ বছরের সম্পর্কের ইতি, আলাদা হচ্ছেন প্রীতম-শেহতাজ
- সীমিত আয়ের মানুষের জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিতের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
- মেসির বিদায়ী ম্যাচে ‘পাঁচটা মনুমেন্টালও ভরে যেত’: স্কালোনি
- গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ছবি প্রকাশ, জরুরি সহায়তা চাইলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
- মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই, বেকায়দায় নিম্নবিত্তরা
- নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবার বাড়ল, ১০ শলাকা এখন ৬৫ টাকা
- প্রেম, অভিমান আর ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি’: রুদ্র–তসলিমার অজানা গল্প
- বাংলাদেশ দলে কাটছাঁট, আসিয়ান কাপের স্কোয়াড থেকে বাদ ৬ ফুটবলার
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রাশিয়ার
- র্যাব বিলুপ্ত, যাত্রা শুরু এসআরবির; বদলাবে পোশাক-লোগো-যানবাহনের রং
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- ‘জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন, তিনি ছিলেন হিন্দু’: ফজলুর রহমানের দাবি, ইতিহাস কী বলে
- বাংলাদেশের কূটনীতি ও রাজনীতিতে আলোচিত নাম সাকিব আলী
- মেসির রেকর্ড ছুঁলেন রাফিনিয়া, ৭ গোলের রাতে ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা




