• বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওকিনাওয়ায় হত্যা মামলার পর মার্কিন সেনাদের কারফিউ, মদপানে নিষেধাজ্ঞা

ওকিনাওয়ায় হত্যা মামলার পর মার্কিন সেনাদের কারফিউ, মদপানে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৫৬ ৭ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের ওকিনাওয়ায় এক নারীকে হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তারের পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এক মাসের কারফিউয়ের পাশাপাশি মদপানে নিষেধাজ্ঞা এবং সাময়িকভাবে সামরিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।

ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী মার্কিন মেরিন ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ওই নারীর মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে ব্যালার্ড অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের জন্য ৩০ দিনের কারফিউ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি মদপানে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে সেনাদের শৃঙ্খলা, আচরণবিধি ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হোটেল কক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় ইয়াগিকে

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর নাহা শহরের একটি হোটেলে ইয়াগিকে অচেতন অবস্থায় পান কর্মীরা। নির্ধারিত সময়ে তিনি চেক আউট না করায় কর্মীরা কক্ষে গিয়ে তাকে দেখতে পান।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্বাসরোধে ইয়াগির মৃত্যু হয়েছে। ব্যালার্ড তার গলায় চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে একজন ব্যক্তিকে ইয়াগির সঙ্গে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ঘটনার পর সন্দেহভাজনকে খুঁজে বের করতে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অভিযানে অংশ নেন।

‘আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে জোটও প্রভাবিত হয়’

ঘটনার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন সেনাদের আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মার্কিন সেনাদের প্রতিটি যোগাযোগ পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে পারে, আবার সেই আস্থা নষ্টও করতে পারে। আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডটিকে অত্যন্ত বর্বর ও জঘন্য হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে পুরোনো ক্ষোভ

ওকিনাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। শব্দদূষণ, সামরিক বিমানসংক্রান্ত দুর্ঘটনা এবং মার্কিন সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে সেখানে বিক্ষোভ হয়েছে।

জাপানে অবস্থানরত প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিনের বেশিরভাগই ওকিনাওয়ায় মোতায়েন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্বীপটি কয়েক দশক যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং ১৯৭২ সালে জাপানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় সেখানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডটি সেই পুরোনো ক্ষোভকে আবারও সামনে এনেছে।

তবে ওকিনাওয়ার ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান—উভয়ের কাছেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি এই দ্বীপপুঞ্জ পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন