• রবিবার , ১২ জুলাই, ২০২৬ | ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী

তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৪ ১১ জুলাই ২০২৬

দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর মেধা, সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাতীয় অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী দক্ষতা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য তরুণদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধারণা সরকারের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

দেশের জনমিতিক সুবিধাকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এমন একটি প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে, যারা হবে শিক্ষিত, দক্ষ, সুস্থ, মানবিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও সৃজনশীল। তরুণদের বিকাশের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে তারা ভালো শিক্ষা পাবে, কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারবে এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সঙ্গে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে তরুণেরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারবে। পরিবার গঠনসহ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও তারা সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

একটি উন্নত রাষ্ট্র গড়তে সুস্থ জনগোষ্ঠীর বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে মাতৃত্ব ও অপুষ্টিকে তরুণ প্রজন্মের বিকাশের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সমস্যা শুধু একটি পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এর প্রভাব পড়ে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দেশের উৎপাদনশীলতার ওপর।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে সরকার সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি তরুণ-তরুণী সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ পেলে তারাই ভবিষ্যতের উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণের প্রধান শক্তি হবে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের চেতনা ধারণ করে তরুণদের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সরকার, পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন